২০ রমজানের মধ্যে বেতন-বোনাস প্রদানের দাবি পোশাক শ্রমিকদের
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক অন্তর্বর্তী সময় অতিক্রম করছে। ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা ও মাতৃভাষার অধিকার আজও অনেকাংশে সাধারণ নাগরিকদের জীবনে প্রতিফলিত হয়নি। বরং,ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়-প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণমুখী কথা বললেও, ক্ষমতা পেলে তাদের অবস্থান পাল্টে গেছে। সদ্য গঠিত এনসিপি একটি নতুন সম্ভাবনা হলেও জনগণের মনে প্রশ্ন-এই দল কি হবে ব্যতিক্রম?নাকি আবারও এক পুরনো নাটকের নতুন দৃশ্য?
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর আগে এ ভূখণ্ড ছিল পাকিস্তানের অংশ—পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত। ভাষা ও জাতিসত্তার প্রশ্নে বাঙালির জেগে ওঠার সূচনা ঘটে যখন তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে, উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষার দাবিতে প্রাণ দেন অনেক শহীদ, যার ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা।
কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এক গৌরবের গল্প হলেও, তার ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে এক গহিন হতাশা। গণতন্ত্রের বদলে দেখা গেছে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান, দলীয় স্বার্থে প্রশাসনিক অপব্যবহার, এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে গড়ে ওঠা ক্ষমতার বলয়।
বর্তমান (২০২৪-২৫) সময়েও বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তরুণ নেতৃত্বে পরিচালিত এই দলটি দেশব্যাপী পদযাত্রা করে সাধারণ মানুষের সামনে অতীত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, এবং আমলাতান্ত্রিক অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরছে। তারা বলছে, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করবে।
তবে এ কথায় আশার পাশাপাশি শঙ্কাও প্রকাশ করছেন দেশের সাধারণ নাগরিকরা। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর যতবার নতুন দল এসেছে, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার বুলি আওড়ালেও, ক্ষমতায় গিয়েই তারা হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের প্রতি উদাসীন। নেতা-কেন্দ্রিক দলগুলো সাধারণত জনগণকে ভুলিয়ে রাখে, আর একবার ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পেলেই ভুলে যায় জনগণের অধিকার, ন্যায্যতা ও মৌলিক চাহিদা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যেন আজকাল একটি মঞ্চনাটকে পরিণত হয়েছে। এখানে নেতা-নেত্রীরা সাজসজ্জা করে, দৃশ্যপট তৈরি করে জনতার সামনে অভিনয় করেন। লেখকের রচনার মতোই দলগুলোর প্রতিটি পদক্ষেপ মনে হয় পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী পরিচালিত। নাগরিকদের বোঝানো হচ্ছে—এই দেশটা যেন কেবল তাদের শো টাইম, আর জনগণ একপাশে বসা দর্শক।
এই বাস্তবতায় নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। জানতে হবে নিজের অধিকার, দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন, এবং সরকার চালানোর প্রক্রিয়া। কাকে ভোট দেবেন, কাকে নেতৃত্বে বসাবেন—এই সিদ্ধান্ত যেন আবেগ নয়, বরং তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়। তা না হলে আমরা যুগে যুগে যেমন ঠকেছি, আগামী দিনগুলোও ঠিক তেমনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাবে।
লেখক: কাজী হাফিজুর রহমান, সম্পাদক, নড়াইলকণ্ঠ
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পূর্বে ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’—উভয় ভোটের সংখ্যাই কমেছে।