• 04 Feb, 2026

নড়াইল-২ আসনে ‘জনগণের মুখোমুখি’: জনগণের প্রশ্নের জবাব দিলেন প্রার্থীরা

নড়াইল-২ আসনে ‘জনগণের মুখোমুখি’: জনগণের প্রশ্নের জবাব দিলেন প্রার্থীরা

নড়াইলকণ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে নড়াইল-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় নড়াইল চৌরাস্তা এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং শেষাংশে ভোটার ও প্রার্থীরা একসঙ্গে শপথ বাক্য পাঠ করেন।

নড়াইল চৌরাস্তা এলাকার মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত এ ‘জনগণের মুখোমুখি’ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুজন নড়াইল জেলা কমিটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক। সঞ্চালনায় ছিলেন সুজন নড়াইল জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক নড়াইলকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন-এর খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সুজন নড়াইল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান লাভু উপস্থিত প্রার্থী ও জনগণকে স্বাগত জানিয়ে সুজনের এ ধরনের কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। আয়োজকরা জানান, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের সচেতন ও সক্রিয় করতেই এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই”—সুজনের এই দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখেই প্রার্থীদের জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

সংলাপে নড়াইল-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত এ জেড এম ফরিদুজ্জামান (প্রতীক: ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান (প্রতীক: লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. আতাউর রহমান (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. তাজুল ইসলাম (প্রতীক: হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম (প্রতীক: কলস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. শোয়েব আলী (প্রতীক: ছড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (প্রতীক: জাহাজ)। তাঁরা উপস্থিত ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

জনগণের মুখোমুখি এই সংলাপে এলাকার ভোটাররা প্রার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। উল্লেখযোগ্য কিছু প্রশ্ন ছিল—সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রার্থীরা ৯৪ নড়াইল-২ আসনের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ রাখবেন এবং জনগণ কি সরাসরি তাঁদের কাছে সমস্যার কথা বলতে পারবেন; নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের প্রতি তাঁদের মূল দায়িত্ব কী এবং সেই দায়িত্ব তাঁরা কীভাবে পালন করবেন; নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে কোন পাঁচটি কাজ সর্বপ্রথম করবেন; নড়াইল-২ আসনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে এমপি হিসেবে তাঁদের ভূমিকা কী হবে এবং তাঁদের মতে একজন এমপির সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়ানো উচিত, নাকি মন্ত্রণালয়ের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তদারকি করে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকেই এমপির মূল দায়িত্ব মনে করেন। এছাড়াও প্রশ্ন আসে, নড়াইল-২ এলাকার প্রধান সমস্যা বা চ্যালেঞ্জগুলো কী কী এবং সেগুলো সমাধানে তাঁদের পরিকল্পনা কী; নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে নিজের কাজের হিসাব কীভাবে দেবেন এবং প্রতিশ্রুত কর্মসূচির অগ্রগতি জানাবেন কীভাবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বেকারত্ব দূরীকরণসহ নানা সামাজিক বিষয়ে নিয়েও ভোটাররা প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরা ধৈর্যের সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

“এ সময় সকল প্রার্থী একে অপরের হাত ধরে জনগণের সামনে নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অনুভূতি প্রকাশ করেন।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিটি প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে এক মিনিট করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরিশেষে, উপস্থিত ভোটার এবং প্রার্থীরা সুজন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত শপথ বাক্য একযোগে উচ্চারণ করেন, যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।