• 26 Apr, 2026

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নড়াইল ইউনিটের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলের জয়

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নড়াইল ইউনিটের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলের জয়

দীর্ঘদিন পর ব্যালটের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নড়াইল ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়। সহ-সভাপতি পদে এম জাহিদুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুব মোর্শেদ জাপল এবং সদস্য পদে পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটারদের সরাসরি অংশগ্রহণে নির্বাচনটি ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নড়াইল ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন দীর্ঘদিন পর ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত সহ-সভাপতি প্রার্থী এম জাহিদুর রহমান মিলন ৫৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জাকির হোসেন বিশ্বাস পান ২৬৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) পদে বিএনপি সমর্থিত অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল ৬০৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত আলমগীর হোসেন পান ২১৯ ভোট।

n2.jpgকার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে আরমান আলী খান ৫১৮ ভোট, মধুমিতা সুলতানা ৫১২ ভোট, খন্দকার কিয়ামুল হাসান কিয়াম ৪৮১ ভোট, তানজির হোসেন ৪৩৭ ভোট এবং আহসান হাবীব মোল্যা ৩৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আমিনুল হাসান মিঠু সদস্য পদে ৩৩০ ভোট পান।

নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দু’জন করে এবং ৫টি সদস্যপদের বিপরীতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া প্যানেলের বাইরে আরও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও সদস্য পদে অংশ নেন।

বিএনপি সমর্থিত প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে মো. জাহিদুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল এবং সদস্য পদে মধুমিতা সুলতানা, আরমান আলী খান, খন্দকার কিয়ামুল হাসান কিয়াম, তানজির হোসেন ও আহসান হাবীব মোল্যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে মো. জাকির হোসেন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আলমগীর হোসাইন এবং সদস্য পদে সানাউল্লাহ, মো. রুহল আমিন, আহসান হাবীব, মো. ইসহাক মিয়া ও শরিফুল ইসলাম বেগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

n3.jpgউল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। পূর্বে একাধিকবার কার্যনির্বাহী কমিটি রাজনৈতিক প্রভাবেই গঠিত হলেও ভোটাররা সরাসরি ভোট দিতে পারেননি। এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

মোট ১ হাজার ১৩৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় ভোটার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) জুলিয়া সুকায়না। কমিশনার হিসেবে ছিলেন আব্দুল হাই সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গৌর চন্দ্র বিশ্বাস।